F

Breaking News

Breaking News

কলকাতা থেকে মন্দারমনি ভ্রমণ | মন্দারমনি রিসোর্ট, সি বিচ ও সূর্যোদয়

 

পরিবার নিয়ে মন্দারমনি ভ্রমণের ছবি
পরিবারের সঙ্গে মন্দারমনি ভ্রমণের কিছু সুন্দর মুহূর্ত

আজকের ব্লগে থাকছে মন্দারমনি, মন্দারমনি ফ্যামিলি নিয়ে গেছিলাম এবং একাধিকবার গেছি  একবার যাওয়ার পরে সেই ভালোলাগাটার জন্য। সেই সম্পূর্ণ ভালোলাগাটা  আপনাদের সামনে তুলে ধরব। যেটার মধ্যে মান্দারমনি রিসোর্ট এর কথা থাকবে, মন্দারমানি সিবিচের কথা থাকবে,আবহাওয়া  কেমন থাকে সেটা থাকবে, সূর্য উদয়ের সেই  ভালোলাগার মুহূর্ত আর এই সবগুলোই আবার আমি ক্যামেরাবন্দি করে রেখেছিলাম, সেগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরবো আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে এই পিওর বেড়াতে যাওয়ার ব্লগটা।

অনেকেরই প্রশ্ন থাকে যে দীঘা না মন্দারমনি যেতে বেশি সময় লাগে? কোনটার  দূরত্ব বেশি এখান থেকেই আমি শুরু করতে চাই। আমি কলকাতা - ১৭, পার্ক সার্কাস ৭ পয়েন্ট থেকে যদি বলি তাহলে দীঘা দূরত্ব হয় আমি বাই কার এ গিয়ে দেখলাম ১৮২ কিলোমিটার মত আমার হয়েছে আর মন্দারমনির দূরত্ব হয়েছে ১৭০ কিলোমিটার তাহলে কলকাতা থেকে যদি দীঘা ও মান্দারমনি বলি তাহলে কিন্তু দূরত্ব প্রায় একই।পথ একই কেবল চালখোলা থেকে দীঘা সিধা আর মন্দারমণি লেফট নিতে হয় কিছুটা। সময় যদি বলা হয় তাহলে বাই কারে এটা প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যেই লাগে এবার যদি আমরা ব্রেকনি দু চার বার তাহলে সেক্ষেত্রে সময় তো বেশি লাগবেই, আর ওয়ান সাইড টোল পরে ২৬৫ রুপি।

এবার চলে আসি যদি আমরা কলকাতা মন্দারমনি বাস ধরি তাহলে বাসগুলো ধর্মতলা বা হাওড়া থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার এর মত হয় তাতেও কিন্তু চার থেকে পাঁচ ঘন্টার মত সময় লাগে। ট্রেনের কথা যদি বলি হাওড়া থেকে কন্টাই একটা আছে দ্বিতীয় হাওড়ার দিঘা একটা আছে।  যদি দীঘা নামা হয় সেক্ষেত্রে আবার ৩৭ কিলোমিটারের মতো লোকাল গাড়ি নিয়ে মন্দারমনি পৌঁছাতে হয়। যেটা প্রায় এক ঘন্টার মত সময় লেগে যায়। 

আমাদের যাত্রাটা ছিল বাই রুট বাই কার করে আমরা যেটা ধরেছিলাম 7 পয়েন্ট AJC বোস ফ্লাইওয়ার, পিজি হসপিটাল এর সামনে দিয়ে সেকেন্ড ব্রিজ হয়ে কোনা এক্সপ্রেস ধরে NH 16 হয়ে কোলাঘাট কাঁথি চাল খোলা থেকে লেফট নিয়ে মন্দারমনি। এই ছিল আমাদের রুট, আমরা কোলাঘাট একটু হোল্ড করলাম কারণ সকালে বার হয়েছিলাম সাড়ে নটার দিকে যার ফলে ওখানে ব্রেকফাস্টটা সেরে নিলাম তারপরে আর কোথাও থামলাম না কারণ রাস্তা খালি ছিল চার ঘন্টা 15 মিনিটে দেখলাম আমরা মন্দারমনি হোটেলেই চেকিং করে নিতে পারলাম। সন্ধ্যা আর সকালের দিকের একটা পার্থক্য কিন্তু দেখা গেল বিশেষ করে দুপুর হয়ে গেলেই রাস্তাঘাটটা অনেকটাই ফাঁকা পাওয়া গেল  ওদিকটা। রাস্তা যেমন ভালো তেমন দুদিকের দৃশ্যেও মনোরম। আর সমুদ্রের সেই ডাক সে আর বলছি না  এক কথায় দারুন দারুন।  


দীঘা মন্দারমনির মধ্যে যে মূল পার্থক্য ব্যাপারটা যেটা ভালো লাগার ব্যাপার এখানে প্রতিটা রিসোর্ট এর প্রাইভেট sea বীচ এর  একটা ব্যবস্থা আছে ফলে অনেকটা ফাঁকা পাওয়া যায় এবং সন্ধ্যা বলুন রাত পর্যন্ত সেখানে বসে ও এনজয় করা যায় পরিবেশটা, সামনে সমুদ্র অদ্ভুত একটা পরিস্থিতি হয় আর বাচ্চাদের খেলার জায়গা তারাও বেশ কিন্তু আনন্দ করেছে তার সাথে সাথে এখানে মাছের বা চিংড়ি মাছের ভ্যারাইটি খাবারের ব্যবস্থা আছে তা আমি সবগুলোই, যেগুলো বলছি আপনারা মনে করলে ভিডিওটাও দেখে নিতে পারেন তাতে কিছুটা তুলে ধরেছি আমাদের সেই ভালোলাগার মুহূর্তগুলো আপনাদের ভালোলাগতে পারে।

পরের দিন কিন্তু সকলে ঘুমালেও আমি আরলি মর্নিং একেবারে উঠে গেলাম গিয়ে সূর্যোদয় টা মোবাইলে ক্যাপচার করার চেষ্টা করলাম। এখানে দেখলাম একটা অন্য ব্যাপার দিনের বেলা এসি চালাতে হচ্ছিল কিন্তু মর্নিং এ যখন উঠে সমুদ্র সাইটে গেলাম দেখছি আবার ঠান্ডা লাগছে, বেশ অনেকটা কিন্তু পার্থক্য দিন আর রাতের তাপমাত্রার মধ্যে সেটা অনুভূত হলো।

আমি লাইভ ভিডিও করলাম কারন আমার খুব শখ ছিল যে আমি সূর্য উদয়  ক্যামেরাবন্দি করব। সেটা আমি করতে পারলাম যদিও  অনেক কুয়াশা ছিল, সূর্যোদয় টা দেখলাম সূর্য উদয় যেটা দেখলাম সেটা তো অনুভূতি একটা আলাদা ব্যাপার জলের মধ্যে থেকে লাল একটা থালা চকচক করতে করতে উপরে উঠছে আর চার দিক আলো হয়ে যাচ্ছে। নিচের ভিডিওতে সেটা আপনারা দেখতে পাবেন।

বাচ্চাদের ভালো লাগার জন্য ওখানে কিন্তু আমর প্লান ছিল যে কদিনের তার থেকে একদিন বেশিই থাকলাম। এবার চলে আসবো রিসোর্ট বুকিং এর ব্যাপারে, যদি পুরো ছুটির সময় যান সে ক্ষেত্রে কিন্তু অনলাইনে বুক করে যাওয়াটাই যুক্তিযুক্ত হবে। নইলে টাইট কন্ডিশন থাকে। অনলাইনে বুকিং করার সময়  অবশ্যই খেয়াল রাখবেন তার ক্যান্সলেশন পলিসি, বুকিং এর পরে কনফার্ম মেসেজটা অর্থাৎ বুকিং আইডিটা এগুলো কাছে রাখাই  যুক্তিযুক্ত আর ওয়েবসাইট যখন ভিজিট করবেন তাদের সঙ্গে কথা বলে নিলে আরো ভালো কারণ আপনি যে যে  সুবিধা চাইছেন বা কার পার্কিং ইত্যাদি।

শেষে একটাই কথা বলব যে এই মান্দারমনি সত্যিই একটা স্মৃতির মধ্যে থাকার টুর হিসেবে থেকে গেছে কারণ আমরা চাই  একটু নির্জনতা, একটু ভালোলাগা, একটু ভাবের আদান-প্রদান পরিবেশের সাথে কানেক্ট করা এই জিনিসগুলো কিন্তু ভিড়ভাট্টা বা হট্টগোল না থাকার জন্য মন্দারমনিতে আমি এই ফিলটা করতে  পেরেছি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্য পোস্ট করুন
নবীনতর পূর্বতন