![]() |
| ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের আপডেট। |
ঘূর্ণিঝড় অর্ণব আপডেট: কোথাথেকে যাবে, বাংলায় কতটা প্রভাব ফেলবে, কলকাতার আবহাওয়া কেমন থাকবে এই সব কিছু নিয়েই আজকের ব্লগ
বঙ্গোপসাগরে নতুন করে তৈরি হওয়া নিম্নচাপকে ঘিরে আবহাওয়ার পরিস্থিতি আবার বদলাতে শুরু করেছে অলরেডি, এই নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হলে ঘূর্ণিঝড়ের পরিণত হতে পারে এবং তখন তার নাম হবে অর্ণব। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘূর্ণিঝড় অর্ণব তৈরি হয়ে গিয়েছে এমন কোন আপডেট নেই, তাই এখনো আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
আবহাওয়া দপ্তরের আপডেট অনুযায়ী এর গতিপথ শক্তি বৃদ্ধির হলে তার উপরে নির্ভর করে তৈরি হবে অর্ণব। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি শক্তিশালী হয়ে প্রথমে গভীর নিম্নচাপ এবং পরবর্তী সময়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে বিভিন্ন পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে। একুশে সেপ্টেম্বরের আপডেট অনুযায়ী সিস্টেমটির আরও শক্তিশালী হওয়া সম্ভাবনা আছে, তবে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়া উপরে কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত আপডেট আসেনি অর্থাৎ এই অর্ণব আসছে বলার চেয়ে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলাই কিন্তু যুক্তিযুক্ত।
এবার কিন্তু আমি যেটা বললাম এটার পার্থক্য বোঝার দরকার আছে কারণ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া প্রত্যেকটি নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় না। সিস্টেমটির শক্তি সমুদ্রের তাপমাত্রা এবং বাতাসের পরিস্থিতি এবং গতিপথের উপর নির্ভর করে।
এখন জানবো এই সিস্টেমটি আছে কোথায়,বর্তমানে বঙ্গোপসাগরের উপরে তৈরি হওয়ায় এই আবহাওয়ার ব্যবস্থা ধীরে ধীরে শক্তি বাড়াচ্ছে পূর্বাভাস অনুযায়ী এটি পশ্চিমবঙ্গর উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে পারে। একুশ থেকে বাইশে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিস্টেমটি শক্তি আরও বাড়ার সম্ভাবনাও কিন্তু আছে। পরবর্তী সময়টি যদি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় তখন তার গতিপথ আরো পরিষ্কার হবে এখন থেকেই নিশ্চিতভাবে কোথায় ল্যান্ড হবে তা কিন্তু কোন আপডেটে পাওয়া যাচ্ছে না।
এই নামকরণটি কে দিল অর্ণব, নিম্নচাপ যদি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় তখন এর নাম হবে অর্ণব এই নামটি বাংলাদেশের দেওয়ার নামগুলি তালিকার মধ্যে আছে অর্থাৎ এখন থেকেই সিস্টেমটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব ধরে নেওয়া ঠিক না তবে ঘূর্ণিঝড়ের পর্যায়ে পৌঁছালে তখন সেই নাম ব্যবহার করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গের উপরে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় অঞ্চলে আছে পড়বে কিনা সেটা এখনো পরিষ্কার কোনো আপডেট নেই বরং বর্তমান যে আপডেট আছে সেই অনুযায়ী যদি আমরা বলি - উড়িষ্যা ও উত্তর অন্ধপ্রদেশের উপকূলের দিকে সিস্টেমটির প্রভাবে কথা বেশি করে বলা হচ্ছে।
এবার কিন্তু সকলের মধ্যেই প্রশ্নটা আসবে তাহলে বাংলায় কি এর কোন প্রভাব পড়বে না। সিস্টেমটির প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি বাড়তে পারে, উপকূলীয় জেলাগুলিতে দমকা হওয়ার প্রভাব থাকতে পারে, কলকাতা সহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা আছে। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং উপকূলের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে আবহাওয়ার পরিবর্তন আগে দেখা দিতে পারে, তবে কোন কোন জেলায় কতটা বৃষ্টি হবে তা প্রতিদিনের আই এম ডি আপডেটের সঙ্গে বদলাতে পারে।
কলকাতার আবহাওয়া টা কেমন হতে পারে। কলকাতা সরাসরি ঘূর্ণিঝড় আছে পড়বে এমন কোন নিশ্চিত তথ্য এখনো পর্যন্ত নেই তবে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ শক্তিশক্তি হলে শহর ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে। বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং দমকা হাওয়াও কিন্তু থাকবে। তাপমাত্রা কিছুটা হলেও আমরা পরিবর্তন দেখতে পাবো।
তাই কলকাতার ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘূর্ণিঝড় সরাসরি শহরের উপর দিয়ে যাবে কিনা শুধু সেটি দেখা নয়, সিস্টেমটি কোন দিকে যাচ্ছে এবং তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের বৃষ্টির পরিমাণ কতটা বাড়ছে এইটা দেখতে হবে।
দক্ষিণ বঙ্গের একাধিক জেলা আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় এবং দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব দিকে জেলাগুলোতে যেমন পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর 24 পরগনা, ঝারগ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলা গুলোতে বৃস্টিপাত থাকছে,সব জায়গায় একই রকম বৃস্টি হবে বলা যায় না।
বর্তমানের আপডেট অনুযায়ী বাইশে সেপ্টেম্বর থেকে পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে। ২৩ - ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে সিস্টেমটি আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা আছে, সেই সময় উড়িষ্যা এবং উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশে ভারী বৃষ্টি পাশাপাশি জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
মৎস্য জীবিদের জন্য সর্তকতা। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ শক্তিশালী হলে সমুদ্রের পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে তাই মৎস্য জীবিদের জন্য আবহাওয়া দপ্তরের নির্দেশ অবশ্যই মেনে চলতে হবে। সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোন নিষেধাজ্ঞা বা সতর্কতা জারি হলে সেটিকে হালকা ভাবে নেওয়া উচিত হবে না। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় বাসিন্দাদেরও স্থানীয় প্রশাসন এবং আবহাওয়া দপ্তরের পরবর্তী নির্দেশিকার দিকে নজর রাখতে হবে।
অবশেষে বলবো বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপকে ঘিরে আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর নজর রাখার দরকার আছে। সিস্টেমটি শক্তিশালী হলে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে তার নাম হতে পারে অর্ণব। কিন্তু একুশে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার চূড়ান্ত কোন কিছু এখনো পর্যন্ত ঘোষণা হয়নি তাই এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সিস্টেম ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কিনা দেখা।
ঘূর্ণিঝড়ের পুরনো ভিডিও: অতীতে ঝড়ের সময়ের কিছু দৃশ্য


