![]() |
| ভাঙড়ে AC-ফ্রিজ, ইলেকট্রিক্যাল, কম্পিউটার ও ব্রাইডাল মেকআপ কোর্সে প্রশিক্ষণের সুযোগ। |
ভাঙড়ে ভোকেশনাল কোর্সে ভর্তি চলছে, AC-ফ্রিজ থেকে কম্পিউটার ও ব্রাইডাল মেকআপ শেখার সুযোগ
চাকরির বাজার এখন এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে শুধু পড়াশোনা করলেই সব সময় কাজ পাওয়া সহজ হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রেই হাতে একটা নির্দিষ্ট কাজের দক্ষতা থাকলে নিজের জন্য সুযোগ তৈরি করা কিছুটা সহজ হয়। বিশেষ করে যারা অল্প সময়ের মধ্যে কোনো কাজ শিখে চাকরি করতে চান, অথবা ভবিষ্যতে নিজের কাজ শুরু করার কথা ভাবছেন, তাদের কাছে ভোকেশনাল ট্রেনিং বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভাঙড় এবং আশপাশের এলাকার এমনই আগ্রহী ছেলে-মেয়েদের জন্য সামনে এসেছে রবীন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন-এর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। আপনারা যদি প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্র দেখে থাকেন তাহলে জানেন যে সেখানে বেশ কয়েকটি কর্মমুখী কোর্সে ভর্তির কথা জানানো হয়েছে। আজকের ব্লগে আমরা আপনাদের কাছে কিছুটা তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
কী কী কোর্স করা যাবে?
মূলত এখানে চার ধরনের কোর্স করা যাবে, AC-ফ্রিজ রিপেয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল হাউস ওয়্যারিং, কম্পিউটার এবং ব্রাইডাল মেকআপ।
একেকজনের আগ্রহ একেক রকম। কেউ টেকনিক্যাল কাজ শিখতে চায় , কেউ কম্পিউটার নিয়ে কাজ করতে চায় , আবার কেউ বিউটি ও মেকআপের ক্ষেত্রে নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করতে চায় । সেই দিক থেকে দেখলে কোর্সগুলোর ধরন বেশ আলাদা।
AC ও ফ্রিজ রিপেয়ারিং
বাড়িতে AC বা ফ্রিজ খারাপ হলে মিস্ত্রির প্রয়োজন হয়। এই ধরনের কাজের জন্য হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। AC ও refrigerator servicing-এর মতো technical skill শিখে ভবিষ্যতে কোনো service সংস্থায় কাজ করার পাশাপাশি নিজের এলাকাতেও service দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে শুধু কোর্স করলেই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আয় হবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, কাজের সুযোগ এবং নিজের পরিশ্রমের ওপর আয় অনেকটাই নির্ভর করে।
ইলেক্ট্রিক্যাল হাউস ওয়ারিং কোর্স
বাড়ি, দোকান কিংবা অফিস যেটাই বলিনা কোনো প্রায় সব জায়গাতেই electrical কাজের প্রয়োজন রয়েছে। তাই electrical wiring-এর মতো ব্যবহারিক কাজ শেখার আগ্রহও অনেকের মধ্যে আছে
এই ধরনের প্রশিক্ষণে শুধু বই পড়ে হয় না , হাতে কাজ করে শেখাটাই আসল। এই প্রতিষ্ঠানে প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের ওপরবিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কম্পিউটার কোর্স
আজকাল ছোট-বড় প্রায় সব ধরনের কাজেই কম্পিউটারের ব্যবহার হচ্ছে । অফিসের কাজ, বিভিন্ন digital service, data-related কাজ কিংবা সাধারণ document তৈরির ক্ষেত্রেও কম্পিউটার জানা ব্যাক্তি কাজে লাগে ।
তাই যারা কম্পিউটারের কাজ শিখে ভবিষ্যতে চাকরি বা অন্য কোনো কাজের দিকে যেতে চান, তাদের জন্য এই ধরনের vocational training কাজে লাগতে পারে। ভর্তি হওয়ার আগে অবশ্যই জেনে নেবেন, আপনার নির্দিষ্ট batch-এ ঠিক কোন কোন বিষয় পড়ানো হবে।
ব্রাইডাল মেকআপ
বিয়ে বা অনুষ্ঠানের সময় professional makeup-এর চাহিদা থাকে। ফলে beauty এবং makeup-এর কাজকেও অনেকে এখন পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
এখানে Bridal Makeup Course ও আছে । এই ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়ে কেউ ভবিষ্যতে পার্লারে কাজ করতে পারেন, makeup service দিতে পারেন অথবা ধীরে ধীরে নিজের পরিষেবা শুরু করার পরিকল্পনা করতে পারেন।
শুধু ক্লাস নয়, practical training-এর ব্যাবস্থা আছে
এই প্রতিষ্ঠানে যে বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় , সেটি হলো 100% practical class। অর্থাৎ শুধুমাত্র তাত্ত্বিকভাবে বিষয় শেখানোর পরিবর্তে বাস্তবে কাজ শেখানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়।
এছাড়াও অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী, ফ্রি ডেমো ক্লাস, field support এবং Personality Development Training-এর মতো সুবিধা আছে এখানে।
বিশেষ করে Personality Development-এর বিষয়টি আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ কোনো কাজ জানা যেমন দরকার, তেমনই মানুষের সঙ্গে কথা বলা, নিজের কথা ঠিকভাবে বোঝানো এবং কাজের পরিবেশে নিজেকে উপস্থাপন করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ভর্তি হওয়ার আগে এই সুবিধাগুলো বাস্তবে কীভাবে দেওয়া হয়, তা সরাসরি training centre-এ গিয়ে জেনে নেওয়াই ভালো।
কোর্স করে মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয়?
এই ইনস্টিটিউটে বলা হয় , vocational course করার পরে মাসে ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা পর্যন্ত income করা সম্ভব।
এই বিষয়টি একটু পরিষ্কার করে বলা দরকার। এই প্রতিষ্ঠানে বলা income এটাকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিশ্চিত মাসিক বেতন হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক না। কারণ একজন ব্যক্তি চাকরি করছেন, নাকি নিজের service business করছেন, তার ওপর আয়ের পরিমাণ বদলে যেতে পারে। অভিজ্ঞতা এবং কাজ পাওয়ার পরিমাণও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
তাই ভর্তি হওয়ার আগে এই income claim-এর ভিত্তি এবং job assistance সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে নিন। কোর্স শেষ করার পরে certificate দেওয়া হবে (যোগ্য student কে মূল্যায়নের মাধ্যমে ) এবং তা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্রহণযোগ্য। উপরোক্ত বিষয়গুলি এডমিশন নেওয়ার সময় যাচাই করা উচিত।
কয়েকটা প্রশ্ন, এডমিশন নেওয়ার পূর্বে
ভর্তির আগে শুধু কোর্স কত টাকা? জিজ্ঞাসা করলেই হবে না।
কোর্স কতদিনের?
পুরো syllabus কী?
মোট ফি কত?
কতটা practical class হবে?
certificate কোন সংস্থা দেবে?
certificate-এর verification কীভাবে হবে?
job বা placement assistance বলতে কী বোঝানো হচ্ছে?
কোর্স শেষ করার পরে কী ধরনের support পাওয়া যাবে?
কোথায় যোগাযোগ করবেন?
প্রচারপত্রে ভাঙড় কলেজ মোড়, চৌমাথা, বন্ধন ব্যাঙ্কের বিপরীতে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে।
যোগাযোগের জন্য দুটি মোবাইল নম্বর :
7679572106
6295334146
তবে যাওয়ার আগে ফোন করে ঠিকানা, বর্তমান batch, course fee এবং ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করে নেওয়াই ভালো।
অবশেষে বলবো
ভোকেশনাল শিক্ষা এমন একটি পথ, যেখানে নির্দিষ্ট কোনো কাজ হাতে-কলমে শেখার সুযোগ থাকে। AC-ফ্রিজ servicing, electrical wiring, computer বা bridal makeup, প্রতিটি ক্ষেত্রেই দক্ষতা তৈরি করতে পারলে ভবিষ্যতে চাকরি কিংবা নিজের কাজ করার সুযোগ খোঁজা যেতে পারে।
তবে কোনো কোর্সই চাকরি বা নির্দিষ্ট আয়ের নিশ্চয়তা দেয়, এমনভাবে দেখা উচিত নয়। নিজের আগ্রহ, শেখার সুযোগ, course syllabus, practical training এবং certificate-এর গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।
নোট: আমার অনুরোধ এই প্রতিবেদনের কোর্স ও সুবিধা সংক্রান্ত তথ্য প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্র এবং প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লেখা। ভর্তি হওয়ার আগে কোর্সের ফি, syllabus, certificate, job assistance এবং অন্যান্য সুবিধা সরাসরি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
