![]() |
| পুরনো সোনার গয়না বিক্রির সময় ওজন, বিশুদ্ধতা ও অন্যান্য চার্জের হিসাব বুঝে নিন |
কোলকাতাতে সোনার দাম কত
আজ ৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ দেখেন নেব কলকাতাতে আজকে সোনার দর কি চলছে, ১৮ ক্যারেট,২২ ক্যারেট এবং ২৪ ক্যারেট। আপনারা জানেন আমরা good returns সাইটটাকেই ফলো করি এবং সেই অনুযায়ী কিন্তু আপডেট টা দিই।
আজ ২৪ ক্যারেট গোল্ড এর এক গ্রামের দাম চলছে 15 হাজার 480 টাকা,
২২ ক্যারেটের দাম চলছে ১৪ হাজার ১৯০ টাকা এবং
১৮ কাল গোল্ডের এক গ্রামের দাম চলছে ১১,৬০০ টাকা
২৪ ক্যারেট গোল্ডের আজকে বেসিক ভ্যালু আসছে দশ গ্রামের ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৮০০ টাকা, ২২ ক্যারেট এর ১০ গ্রামের দাম ১,৪১,৯০০ টাকা
আজ এক ভরি সোনার অনলাইন প্রাইস ১,৬৫,৫১২ টাকা যার মধ্যে gst বা মেকিং চার্জ নেই।
সোনার দাম বাড়লে পুরনো গহনা বিক্রি করে লাভ না লস বা কত পাওয়া যায়?
সোনার দাম বাড়লে অনেকেরই মনে একটা প্রশ্ন আসে তাহলে বাড়িতে থাকা পুরানো সোনার গহনা যদি বিক্রি করা যায় অর্থাৎ যেগুলো ২২ ক্যারেট সোনা অর্থাৎ চেইন, আংটি, হার, বালা অর্নামেন্টস গুলো থাকে তাতে কি বেশি টাকা আসে লাভ হয়।
প্রথমেই বলি একটা জিনিস সবসময় মনে রাখা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে আপনি যে দামে নতুন সোনা কিনছেন সাধারণত সেই একই দামে পুরনো গহনা বিক্রি হয় না।
কারণ পুরানো গহনার ক্ষেত্রে গহনার ওজন শোনার বিশুদ্ধতা পাথর বা অন্য ধাতুর অংশ কতটা তা ছাড়া দোকানদারের মূল্যায়নের পদ্ধতি সব মিলে দেখে ফাইনাল এমাউন্ট টা পাওয়া যায়।
১০ গ্রাম ২২ ক্যারেট গহনা থাকলে কত টাকা পাওয়া যায়?
মনে করুন আপনার কাছে ১০ গ্রাম ওজনের একটি ২২ ক্যারেট সোনার গহনা আছে প্রথমে গহনার মোট ওজন এবং বিশুদ্ধতার যাচাই করা হয়।
২২ ক্যারেট সোনার সাধারণত ৯১.৬% বিশুদ্ধ সোনা থাকে।
বাস্তব ক্ষেত্রে দোকানে পুরানো গহনা যখন বিক্রি করা হয় শুধু এই হিসাব করলেই কিন্তু চূড়ান্ত দাম পাওয়া যায় না। গহনার পাথর মিনা সুতো লকেটের অংশ ও অন্যান্য উপাদান থাকলে সেগুলো ওজন বাদ যায়।
পুরানো গহনার মেকিং চার্জ কি ফেরত পাওয়া যায়?
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় কারণ নতুন গহনা কেনার সময় সোনার দামের পাশাপাশি একটা মেকিং চার্জ দিতে হয় সেটা নির্ভর করে স্থান জায়গা এবং সোনার উপরে কারুকার্য যেটা ডিজাইন বলি তার উপরে। সাধারণত সেই মেকিং চার্জ ১০ থেকে ২৫ পার্সেন্ট এর মত থাকে।
কিন্তু পুরানো গহনা যখন বিক্রি করতে যাওয়া হয় সে ক্ষেত্রে দেখা যায় মেকিং চার্জের টাকা আর ফেরত হয় না অর্থাৎ আপনি যদি একটি গহনা কিনে আনেন তার সোনার দাম ছাড়া ১০ হাজার টাকা যদি মেকিং চার্জ দিয়ে থাকেন এই দশ হাজার টাকা ফেরত হবে এই ধারণাটা কিন্তু ভুল।
জি এস টি - টাকা কি ফেরত পাওয়া যায়?
আমরা যখন গহনা সোনা কিনতে যাই সে ক্ষেত্রে দেখা যায় আমাদের যে রেটটা হয় সেই রেটের উপর থ্রি পার্সেন্ট জিএসটি লাগে কিন্তু পুরানো গহনা যখন বিক্রি করা হয় সেই জিএসটি কিন্তু ফেরত হয় না
অরনামেন্টসের উপরে যদি পাথর থাকে কি হবে?
অনেক গহনায় অনেক সুন্দর সুন্দর পাথর মিনা এবং অন্যান্য উপাদান থাকে ফলে গহনার মোট ওজনের পুরোটাই শোনার ওজন নয়।
অর্নামেন্ট থেকে সেই বস্তু বা পাথর আলাদা করে তার পরিমাপ করে সেটা মাইনাস করে ওজন হয়।
হলমার্ক ও এইচ ইউ আই ডি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
পুরানো গহনা সোনা যখন আপনি বিকরি বা এক্সচেঞ্জ করতে যাবেন হলমার্ক এবং এইচ ইউ আই ডি তথ্য থাকলে বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা হয়।
বিশেষ করে নতুন অর্নামেন্টস কেনার সময় হলমার্ক এবং এইচ ইউ আই ডি দেখে নেওয়া উচিত কারণ ভবিষ্যতে সেই গহনা বিক্রি বা এক্সচেঞ্জ করার সময় এই তথ্য কাজে লাগবে।
এ্যাক্সচেঞ্জ করলে কি বেশি সুবিধা?
দেখা গেছে পুরনো গহনা সরাসরি বিক্রি করার পরিবর্তে নতুন গহনা কেনার সময় এক্সচেঞ্জ করার সুযোগ অনেক দোকানদার দেয় কিন্তু এক্সচেঞ্জ মানেই সব সময় বেশি দাম পাওয়া যাবে এমনটা নয়।
দোকান ভেদে স্থান ভেদে পুরানো সোনার মূল্যায়ন বিশুদ্ধতা পরীক্ষা এবং অন্যান্য চার্জের নিয়ম আলাদা হতে পারে তাই একই দিনে একাধিক দোকান থেকে পুরানো গহনার মূল্য কত হচ্ছে তা দেখে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
পুরানো সোনা বিক্রির আগে পাঁচটি বিষয়ে দেখুন:
প্রথমত গহনার মোট ওজন মেপে নিন।
দ্বিতীয়ত গহনা ক্যারেট বা বিশুদ্ধতা যাচাই করুন।
তৃতীয়ত পাথর বা অন্যান্য উপাদানের ওজন আলাদা করা হচ্ছে কিনা কিভাবে।
চতুর্থতো দোকান প্রতি গ্রাম কত দামে আপনার পুরানো সোনা কিনছে তা পরিষ্কারভাবে জিজ্ঞাসা করে নিন এবং
পঞ্চমতবার শেষ কথা হল এক দোকানের হিসাবের সঙ্গে অন্য দোকানের হিসাব অবশ্যই তুলনা করুন।
অবশেষে বলবো
সোনার দাম বাড়লে পুরানো গহনা বিক্রি করে লাভের সুযোগ অবশ্যই তৈরি হতে পারে কিন্তু লাভের হিসাব করতে শুধু আজকের বাজার দেখলেই হবে না।
গহনার বিশুদ্ধতা, নেট সোনার ওজন,পাথরের ওজন, মেকিং চার্জ এবং বিভিন্ন সময় দোকানের মূল্যায়ন সবকিছু দেখে বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া যুক্তিযুক্ত।
তাই পুরানো সোনা বিক্রি করার আগে তাড়াহুড়ো না করে অন্তত দুই তিনটি জায়গা থেকে মূল্যায়ন করিয়ে নেয়, আর নতুন গহনা কেনার সময় বিল হলমার্ক এবং এইচইউআইডি তথ্য সংরক্ষণ করে রাখুন ভবিষ্যতে সেটি এক্সচেঞ্জকরার সময় এগুলো কিন্তু কাজে আসে।
সবশেষে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দোকানে গিয়ে শুধু আজ ২৪ ক্যারেট সোনার দাম কত জিজ্ঞাসা না করে বলতে হবে আমার পুরানো গহনার নেট গোল্ড ওয়েট কত এবং আজকের হিসাবে আপনারা আমাকে প্রতি গ্রামে কত দাম দিতে পারছেন এসব প্রশ্ন উত্তর পেলেই আসল হিসেবটাই আপনি বুঝতে পারবেন l
আজকের ভিডিও
এই লেখায় দেওয়া হিসাব শুধুমাত্র সহজে বোঝানোর জন্য উদাহরণ। বাস্তবে পুরনো সোনার গয়নার মূল্য দোকান, সোনার বিশুদ্ধতা, নেট ওজন ও সংশ্লিষ্ট শর্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।