![]() |
| মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক হাজারদুয়ারী প্রাসাদ |
হাজারদুয়ারী প্রাসাদ ভ্রমণ: মুর্শিদাবাদের ইতিহাস, রহস্য ও নবাবি স্থাপত্যের এক অসাধারণ গল্প
মুর্শিদাবাদ নামটা শুনলেই বাংলার ইতিহাসের অনেক কথা মনে পড়ে যায়। নবাব, প্রাসাদ, পুরনো স্থাপত্য, সিরাজউদ্দৌলা, পলাশীর যুদ্ধ আর এই সবকিছুর সঙ্গে কোথাও না কোথাও এই শহরের সম্পর্ক রয়েছে, আজ এখানে এসে সেটাই যেন বারবার মনে পড়ছে।
কিন্তু মুর্শিদাবাদে এমন একটি জায়গা আছে, যেখানে পৌঁছানোর পর ইতিহাসকে শুধু বইয়ের পাতায় পড়তে হয় না, চোখের সামনেই তার অনেকটা অনুভব করা যায়। সেই জায়গার নাম হাজারদুয়ারী প্রাসাদ। আমি এখানে পৌঁছে আগে প্রাণ ভরে দম নিলাম আর মন ভরে দুচোখ দিয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম তারপর ভেতরে ঢুকলাম।
ভাগীরথীর কাছাকাছি কিলা নিজামত এলাকার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা এই বিশাল প্রাসাদ আজও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। দূর থেকে প্রাসাদটির বিশাল আকার, সামনে খোলা জায়গা এবং চারপাশের ঐতিহাসিক পরিবেশ দেখলেই বোঝা যায়, একসময় এই এলাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এর ভিতরে আমি একবারই ঢুকতে পেরেছিলাম যখন মহরম চলছিল। সেই সময় হাজার হাজার মানুষের আগমন ঘটে।
হাজারদুয়ারি প্যালেসের প্রবেশমূল্য
মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক হাজারদুয়ারি প্যালেস মিউজিয়াম ভ্রমণের আগে টিকিটের মূল্য ও খোলার সময় জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
Museums of India-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী হাজারদুয়ারি প্যালেস মিউজিয়ামের প্রবেশমূল্য হলো:
- 🇮🇳 ভারতীয় প্রাপ্তবয়স্ক: ₹২০
- 🌍 বিদেশি প্রাপ্তবয়স্ক: ₹১০০
- 👦 ১৫ বছরের কম বয়সি শিশু: বিনামূল্যে
এই প্রবেশমূল্যের তথ্য Museums of India-এর Hazarduari Palace Museum-এর তথ্যপেজে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।
হাজারদুয়ারি প্যালেস মিউজিয়াম খোলার সময়
Museums of India-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী মিউজিয়ামটি খোলার সময়:
🕘 খোলার সময়: সকাল ৯টা
🕔 বন্ধের সময়: বিকেল ৫টা
খোলা থাকে: রবিবার, সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শনিবার।
শুক্রবার: বন্ধ।
তথ্যের উৎস
Source: Museums of India Museum: Hazarduari Palace Museum, Murshidabad Official information page: "Museums of India – Hazarduari Palace Museum" (https://reference-url-citation.invalid/3)
নোট: টিকিটের মূল্য ও মিউজিয়ামের সময়সূচি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে Museums of India/মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়া ভালো। এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট উৎসে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।
হাজারদুয়ারী নাম কেন?
হাজারদুয়ারী নামটির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এই প্রাসাদের সবচেয়ে বড় রহস্য। নাম শুনলে স্বাভাবিকভাবেই মনে হয়, প্রাসাদটিতে হয়তো সত্যিই এক হাজারটি দরজা রয়েছে। কিন্তু বিষয়টি একটু অন্যরকম।
পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রাসাদে মোট এক হাজারটা দরজার মধ্যে ৯০০টা আসল এবং বাকি দরজাগুলি নকল। এই অদ্ভুত নকশার পিছনে নিরাপত্তার একটি কারণও ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আসল ও নকল দরজা একসঙ্গে থাকায় বাইরের কেউ প্রাসাদের ভিতরে ঢুকে সহজে পথ বুঝে উঠতে পারত না। এক কথায় বলা যায় এটা একটা বাড়তি সিকিউরিটি ।
ভাবুন তো, আপনি একটি বিশাল প্রাসাদের ভিতরে ঢুকেছেন। সামনে একের পর এক দরজা। কিন্তু কোনটি সত্যিকারের দরজা আর কোনটি শুধু দেখানোর জন্য—তা বোঝাই কঠিন।
এই কারণেই হাজারদুয়ারীর দরজার গল্প আজও দর্শনার্থীদের মধ্যে এতটা কৌতূহল তৈরি করে। ভিতরে ঢুকতে গেলে টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে মোবাইল,ক্যামেরা সুইচ অফ করে ভিতরে ঢুকতে হয় কারণ ভেতরে ছবি তোলা এলাও নেই।
এই প্রাসাদ কে তৈরি করেছিলেন?
হাজারদুয়ারী প্রাসাদ আগে “বড় কোঠি” নামে পরিচিত ছিল। এটি কিলা নিজামত প্রাঙ্গণের মধ্যে অবস্থিত।
ঊনবিংশ শতাব্দীতে নবাব নাজিম হুমায়ুন জাহের আমলে স্থপতি ডানকান ম্যাক্লিয়ডের নকশায় প্রাসাদটি নির্মিত হয়। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণের বছর ১৮৩৭।
অর্থাৎ আমরা আজ যে হাজারদুয়ারী প্রাসাদ দেখতে পাই, সেটি সিরাজউদ্দৌলার সময়ের প্রাসাদ নয়। বরং এটি পরবর্তী সময়ের নবাবি আমলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য।
এই বিষয়টি অনেকের কাছেই নতুন হতে পারে। বাইরে থেকে দেখলে যেমন, ভিতরের গল্প আরও বড় আরো অন্যরকম,
হাজারদুয়ারী প্রাসাদকে শুধু একটি পুরনো রাজবাড়ি হিসেবে দেখলে এর আসল গুরুত্ব বোঝা যাবে না।
বর্তমানে প্রাসাদটি একটি জাদুঘর হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের তথ্য অনুযায়ী, এখানে ১১৪টি কক্ষ এবং ৮টি গ্যালারি রয়েছে। জাদুঘরে অস্ত্রশস্ত্র, বিভিন্ন ঐতিহাসিক ছবি ও প্রতিকৃতি, নবাবদের সঙ্গে সম্পর্কিত নিদর্শন, চিনা হাতির দাঁতের কাজসহ নানা মূল্যবান সংগ্রহ রয়েছে। অর্থাৎ বাইরে থেকে যে বিশাল ভবনটি দেখা যায়, তার ভিতরে ঢুকলে মুর্শিদাবাদের নবাবি আমলের আরও অনেক ইতিহাস সামনে আসে।
হাজারদুয়ারীর স্থাপত্য কেন আলাদা?
প্রাসাদটির বিশাল সামনের অংশ, সারি সারি দরজা, বড় জানালা এবং দীর্ঘ স্থাপত্যিক কাঠামো দূর থেকেই চোখে পড়ে। শেষে ভিডিও দিয়ে দেব, ভিডিওতে প্রাসাদের বাইরের অংশ দেখলে একটা বিষয় পরিষ্কার বোঝা যাবে যে এটি ছোট কোনো রাজবাড়ি নয়। পুরো স্থাপনাটির আকারই দর্শনার্থীর মনে আলাদা একটা অনুভূতি তৈরি করে। প্রাসাদের চারপাশে দাঁড়িয়ে একদিকে পুরনো স্থাপত্য, অন্যদিকে খোলা আকাশ এবং ঐতিহাসিক পরিবেশ—সব মিলিয়ে জায়গাটিকে অন্যরকম করে তুলেছে।
হাজারদুয়ারীর সঙ্গে কিলা নিজামতের সম্পর্ক
হাজারদুয়ারীকে আলাদা করে দেখলে পুরো ইতিহাসটা বোঝা যায় না। এটি কিলা নিজামত বা নবাবদের দুর্গ-প্রাঙ্গণের অংশ। মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের তথ্যেও হাজারদুয়ারীকে কিলা নিজামতের মধ্যে অবস্থিত ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই এলাকায় শুধু একটি প্রাসাদ নয়, আরও একাধিক ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে। তাই হাজারদুয়ারী দেখতে গেলে আশপাশটাও ভালোভাবে দেখার মতো।
পাশেই নিজামত ইমামবাড়া
হাজারদুয়ারীর সামনে বা পাশের অংশে গেলে আরেকটি বিশাল ঐতিহাসিক স্থাপনা চোখে পড়ে—নিজামত ইমামবাড়া।
এটি একটি শিয়া মুসলিম ধর্মীয় সমাবেশের স্থাপনা। বর্তমান ইমামবাড়া ১৮৪৭ সালে নবাব মনসুর আলি খানের সময় নির্মিত হয়। মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে সিরাজউদ্দৌলার সময় তৈরি একটি ইমামবাড়া ছিল, যা ১৮৪২ এবং ১৮৪৬ সালের অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস হয়ে যায়। পরে বর্তমান ইমামবাড়াটি নির্মাণ করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান ইমামবাড়াটি প্রায় ৬৮০ ফুট দীর্ঘ এবং কেন্দ্রীয় অংশে প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ মদিনা অংশ রয়েছে।
হাজারদুয়ারীর পাশাপাশি এই বিশাল স্থাপনাটির উপস্থিতিও পুরো এলাকার ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরছে।
![]() |
| হাজারদুয়ারীর পাশে ঐতিহাসিক নিজামত ইমামবাড়া |
মুর্শিদাবাদ মানেই শুধু হাজারদুয়ারী নয়
মুর্শিদাবাদকে বুঝতে হলে একটু পিছনের ইতিহাসে যেতে হবে। মুর্শিদাবাদ জেলার সরকারি ইতিহাস অনুযায়ী, মুর্শিদ কুলি খানের শাসনকালে মুকসুদাবাদ বাংলার রাজধানী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ব্রিটিশদের আগমনের আগে মুর্শিদাবাদ ছিল বাংলার রাজধানী। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় পরিবর্তন আসে। আজকের মুর্শিদাবাদে হাঁটলে সেই অতীতের অনেক চিহ্ন এখনও দেখতে পাওয়া যায়। কোথাও পুরনো মসজিদ, কোথাও সমাধি, কোথাও প্রাসাদ, কোথাও বাগান আর এই সব মিলিয়ে পুরো শহরটাই যেন ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়কে এক জায়গায় ধরে রেখেছে।
ভাগীরথীর পাশে হাজারদুয়ারী
এটির অন্যতম সুন্দর অংশ হল নদীর দিকের দৃশ্য। হাজারদুয়ারীর আশপাশের ঐতিহাসিক পরিবেশের সঙ্গে ভাগীরথী নদীর উপস্থিতি জায়গাটিকে আরও সুন্দর করে তোলে। মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের তথ্যেও হাজারদুয়ারীকে নদীর কাছাকাছি অবস্থিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
একদিকে শত বছরের পুরনো স্থাপত্য, অন্যদিকে নদীর প্রবাহ—এই বৈপরীত্যটাই মুর্শিদাবাদের সৌন্দর্যের অন্যতম অংশ। প্রাসাদ দেখার পরে নদীর দিকটায় কিছুটা সময় কাটালে ভ্রমণের অভিজ্ঞতাটা আরও সম্পূর্ণ মনে হতে পারে। আমি ভিডিওতে পিছন দিকটা পুরো ঘুরিয়ে দেখিয়েছি।
![]() |
| মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক এলাকার পাশে ভাগীরথী নদী |
মুর্শিদাবাদে গেলে আর কী দেখা যায়?
হাজারদুয়ারীকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদ ঘুরতে গেলে শুধু এই একটি জায়গাতেই থেমে থাকার দরকার নেই। মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের পর্যটন তালিকায় হাজারদুয়ারী, নিজামত ইমামবাড়া, কাটরা মসজিদ, নশিপুর রাজবাড়ি-সহ একাধিক ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে। তাই একদিনের বদলে একটু সময় হাতে নিয়ে গেলে মুর্শিদাবাদের ইতিহাসকে আরও ভালোভাবে দেখা যায়।
কীভাবে হাজারদুয়ারী যাবেন?
কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদ সড়ক ও রেলপথে যাওয়া যায়। বাইকারে আমাদের সময় লাগলো 6 ঘন্টার মত আর কলকাতা থেকে হাজারদুয়ারি ২২৫ কিলোমিটারের মতো। তাছাড়া মুর্শিদাবাদ রেলস্টেশন থেকে হাজারদুয়ারী প্রাসাদের দূরত্ব পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১.৮ কিলোমিটার। কলকাতা বিমানবন্দর থেকেও সড়কপথে মুর্শিদাবাদ যাওয়ার ব্যবস্থা আছে। রেলপথে গেলে স্টেশন থেকে স্থানীয় টোটো, অটো বা গাড়ি নিয়ে কিলা নিজামত এলাকায় পৌঁছানো যায়।
কখন গেলে ভালো?
মুর্শিদাবাদ ভ্রমণের ক্ষেত্রে আবহাওয়া অবশ্যই মাথায় রাখা উচিত। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বাইরে ঘোরার পরিকল্পনা থাকলে খুব গরমের সময় না যাওয়াই যুক্তিযুক্ত। তুলনামূলক আরামদায়ক আবহাওয়ায় যাওয়া ভালো। বর্ষাকালে নদী ও সবুজ পরিবেশের সৌন্দর্য আলাদা রকম হতে পারে, তবে বৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা দরকার। আমি সব সিজেনে গিয়ে দেখেছি, ঠান্ডার সময় সব থেকে বেশি পর্যটক দেখা যায়। আর যদি ছবি তুলতে চান, সকাল বা বিকেলের আলো ঐতিহাসিক স্থাপত্যের ছবি তোলার জন্য বেশ সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়।
হাজারদুয়ারী ঘুরতে গেলে যে অনুভূতিটা থেকে যায়, হাজারদুয়ারী দেখার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়তো এর দরজার সংখ্যা নয়। আসল আকর্ষণ হল—এই প্রাসাদ দাঁড়িয়ে আছে বাংলার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের স্মৃতি নিয়ে। প্রাসাদের সামনে দাঁড়ালে মনে হয়, এই জায়গা দিয়ে কত মানুষ হেঁটেছেন, কত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কত পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে এই এলাকা।
আজ সেখানে পর্যটক আসে, ছবি তোলে, ইতিহাস জানতে চায়। কিন্তু প্রাসাদের পুরনো দেয়ালগুলো এখনও সেই অতীতের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
শেষ কথা
মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারী এমন একটি পর্যটনকেন্দ্র, যেখানে ভ্রমণ আর ইতিহাস একসঙ্গে মিশে যায়। ওখানকার গাইডদের বর্ণনা এক অসাধারণ আবেগ তৈরি করে, সোজা কথায় ভালোলাগার পরিবেশ তৈরি হয়।
একদিকে বিশাল প্রাসাদ, এক হাজার দরজার রহস্য, ১১৪টি কক্ষ ও জাদুঘরের সংগ্রহ; অন্যদিকে নিজামত ইমামবাড়া, কিলা নিজামতের পরিবেশ এবং কাছেই ভাগীরথী—সব মিলিয়ে পুরো এলাকাটি বাংলার ইতিহাসকে দেখা, ভাবা, অনুভব করার সুযোগ করে দেয়।
মুর্শিদাবাদে গেলে তাই শুধু হাজারদুয়ারীর সামনে দাঁড়িয়ে একটি ছবি তুলে ফিরে আসার পরিবর্তে একটু সময় নিয়ে চারপাশটা দেখা উচিত। কারণ এখানে শুধু একটি প্রাসাদ নেই—আছে বাংলার নবাবি আমল, রাজনৈতিক ইতিহাস, স্থাপত্য, নদী এবং বহু বছরের স্মৃতি।
এই কারণেই হাজারদুয়ারী শুধু মুর্শিদাবাদের একটি দর্শনীয় স্থান নয়, বাংলার ইতিহাসকে কাছ থেকে দেখার একটি দরজা।


